Connect with us

জাতীয়

বাংলার কৃষকদের বড় ক্ষতি করে দিল্লিতে আন্দোলন করছে সিপিএম

Published

on

‘লাঙ্গল যার জমি তার’, সিপিএম ও কৃষির গলা টিপে ধরা

আগরতলা: ১৯৭৭ এ সিপিএম সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর যে যুগান্তকারী (বামপন্থীদের দাবী মতো) দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার একটি হল ভূমি সংস্কারের পরিকল্পনার অধীনে অপারেশন বর্গা৷ এখনও মাঝে সাঝে বামমনস্ক অর্থনীতিবিদ কিংবা পাড়ার চায়ের দোকানের কর্মহীন সিটু নেতাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন কিরকম বুক ঠুঁকে বলবেন অপারেশন বর্গা ও ভূমিসংস্কারের যুগান্তকারী সুফলের কথা। বামপন্থী, নকশাল, মাওবাদী, খুনি হার্মাদ সহ সমস্ত রকমের বাম-অতিবামদের অন্যতম প্রিয় ডায়লগ হল, লাঙ্গল যার জমি তার। এবার টুক করে সহজ ভাবে অপারেশন বর্গা ও ভূমি সংস্কার নিয়ে একটা আলোচনা করে নেওয়া যাক। ১৯৭৭ এ ক্ষমতায় আসার পরপরই বামেরা অপারেশ বর্গা করল। সময়টা খেয়াল করুন ১৯৭৭-৭৮-৭৯ স্বাধীনতার প্রায় ৩০ বছর পর। এর আগেই স্বাধীন ভারতের সরকার জমিদারি প্রথার অবলুপ্তি ঘটিয়েছিল৷

ভূমি দফতরের দেওয়া তথ্য অনুসারে ১৯৫৩ সালে রাজ্যে জমিদারি বিলোপ আইন পাশ হয়। সেই আইনের মূল বিষয় ছিল, পশ্চিমবঙ্গে কোনও রায়ত ২৪ একরের বেশি জমি রাখতে পারবেন না। ব্যক্তিমালিকানায় থাকা ২৪ একরের বেশি জমিকে খাস ঘোষণা করেছিল সরকার। কলকাতা সহ দেশের সিসিড ও ব্যারিস্তা ফেরৎ কৃষকবোদ্ধাদের জানিয়ে দিই ২৪ একর মানে প্রায় ৬৫ বিঘার কাছাকাছি জমি৷ এরপর ১৯৫৫ তে আবার একটি ল্যান্ড রির্ফম অ্যাক্ট আসে। এরকমভাবে ১৯৭৭ এ সিপিএম যখন বাংলায় ক্ষমতায় এল তখন সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাতে গোনা জোতদার ছিল। জমিদার নয়, জোতদার।

যাদের জমির পরিমান ওই মেরে কেটে ১০০ বিঘে কিংবা কিছুটা বেশি৷ কিন্তু সিপিএম তো কৃষকদরদী সরকার তাই এসেই চলো আজ কুছ তুফানি করতে হ্যায় বলে আবারও ভূমিসংস্কারের মধ্যে অপারেশন বর্গাকে লঞ্চ করে দিল ১৯৭৮-৮৯ এ। বাবার জমি সব ছেলে সমান পাবে এই নিয়ম থাকা পশ্চিমবঙ্গে ধরা যাক এক ব্যক্তির ৪টি ছেলে এখন সেই ব্যক্তির পরে চার ছেলের মধ্যে জমি ভাগ হলে প্রত্যেকের হাতে থাকল ওই গড়ে ১৭ বিঘে করে (২৪ একর রুলে) জমি। আর তার পরের প্রজন্মে? নিজেরাই হিসেব করে নিন৷ এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় জমির জোত ভাগ হতে হতে ছোট ছোট জমি তৈরি হল পশ্চিমবঙ্গে। এই ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে কোচাবিহার থেকে কাঁথি, বীরভূম থেকে বকখালি যদি একক মালিকানায় টানা পাঁচবিঘের একটা জোত খুঁজে পান তাহলে সেটা এলিয়েন দেখার চেয়ে কম সৌভাগ্যের নয়৷

এবার আসি বর্গায়৷ ভূমি সংস্কারের নামে চ্যাংড়ামো যা করার তা তো করেই দিয়েছিল এবার মরার উপর খাড়ার ঘা তো দিতে হবে তাই সিপিএম লঞ্চ করল গর্বের ‘দ্য অপারেশন বর্গা’, এর মাধ্যমে ঘোষণা হল, লাঙ্গল যার জমি তার। অর্থাৎ যে ভাগচাষী কোনও জমির মালিকের জমিতে চাষ করেন তিনি বর্গা করে জমির চিরস্থায়ী মালিকানা পাবেন। এবার আগেই ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে একক মালিকানা ভাগ হতে হতে হয়ত কোনও কৃষক পরিবারের হাতে ৪ থেকে ৫ বিঘে জমি ছিল। এই জমির উপর নির্ভর করে কষ্টে সংসার চলত, বর্গাদাররা সেটুকুতেও ভাগ বসিয়ে একটি কৃষক পরিবারকে দিন মজুরে পরিনত করল৷ ব্যস এবার বামেরা শান্তি পেল। কারণ ওদের মোটোই হল ‘সবাইকে গরীব বানাও, দিন মজুর বানাও। তারপর তাদের নিয়ে রাজনীতি করো।’ কারণ বামপন্থীদের চোখে নিজে বাদ দিয়ে বাকি সব অর্থবান লোক মানেই বুর্জোয়া। তা সে যত পরিশ্রম করেই অর্থবান হোক না কেন।

এখন মজার বিষয় হল, জানেন কি দেশের কোন রাজ্যের কৃষি জমির মালিকরা বামেদের এই ভূমি সংস্কার, অপারেশন বর্গা এবং ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ ডায়লগকে যাস্ট ছুঁড়ে আস্তাকুড়ে ফেলে দিয়েছে? পঞ্জাব৷ হ্যাঁ একদমই ঠিক পড়লেন৷ সারা পচিমবঙ্গে যেখানে একক মালিকানায় একসঙ্গে এক জোতে ৫ বিঘের জমিও পাওয়া দুষ্কর সেখানে পঞ্জাবের কৃষকদের অন্তত ৬০ শতাংশের একক মালিকায় বড় (পাঁচ বিঘেরও বেশি) জোতের জমি রয়েছে। পঞ্জাবের কৃষকদের অনেকেরই ১০০ বিঘের উপর জমি রয়েছে একক মালিকানায়৷ আর যদি, ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ এই নীতি পঞ্জাবে লাগু করতে চায় বামেরা তাহলে পঞ্জাবের কৃষকরা রাতারাতি ভূমিহীন হয়ে যাবেন আর পঞ্জাবটা বিহার হয়ে যাবে৷ কারণ ওখানে কৃষিতে যুক্ত ৬০ শতাংশ শ্রমিক (লাঙ্গল আসলেই যাদের) উত্তরপ্রদেশ বিহার থেকে যায় এখনও।

দিল্লিতে পঞ্জাবের কৃষকদের আন্দোলনে কোনও চাষী বাড়ির ছেলের বিএমডব্লিউ বা ল্যান্ড রোভারের সামনে দাঁড়ানো ছবি দেখে বাংলার অনেকে বলছেন, এরাও চাষী বাড়ির ছেলে? খোদ বামভাবধারায় বিশ্বাসী ছেলেপুলেরাও দেখলাম এরকম ছবিতে ঢোঁক গিলে বলছে, ‘ইয়ে না মানে, ইয়ে মানে, হয়ত ছবিটা ফেক। কিংবা বাইরে থেকে কেউ কৃষকদের সমর্থন করছে। করতেই পারে…’

কিন্তু সাহস করে বলতে পারছে না, হ্যাঁ এও চাষী বাড়ির ছেলে। বলবে কি করে, চাষীর ছেলে ল্যান্ড রোভার চড়ছে! এটা বাংলার বামপন্থী ছেলেমেয়েদের কল্পনার অতীত৷ আর তাদের আদর্শ মতে এটা হওয়াও উচিৎ নয়। চাষীর ছেলে ধুতি পরে টিনের বাক্স নিয়ে বিলের আড় দিয়ে স্কুল যাবে। বড় হয়ে ওই একটু চাষবাস, বেশি হলে স্কুল মাস্টারি করবে। সিপিএম জিন্দাবাদ বলবে। বড়জোর বোলেরো চড়ে বিয়ে করতে যাবে, তারপর স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে বিনামূল্যের চিকিৎসা নিতে নিতে একদিন মরে যাবে!

ল্যান্ড রোভার, রোলস রয়, ল্যামবারগিনি চড়া এ কেমন চাষীর ছেলে? বুর্জোয়ার হদ্দ একেবারে! যদি বাংলার বামপন্থী ছেলেপুলেরা সময় মতো কয়েকমাস পাঞ্জাবে কাটিয়ে আসার সুযোগ পেতো তাহলে ফিরে এসেই লিখত, “চাষী অপেক্ষা বুর্জোয়া জীবনে দেখি নাই”।

পঞ্জাবী গানগুলো শুনবেন, মিউজিক ভিডিগুলো দেখবেন, ল্যমবারগিনি, ল্যান্ড রোভার নিয়ে শ্যুট৷ অথচ হিটও৷ আপনি বাংলাতে ল্যামবারগিনি নিয়ে লোকগীতি মিউজিক তৈরি করুন তো, লোকে বাড়ি বয়ে এসে কেলিয়ে যাবে। কারণ বাংলার চাষীরা ল্যাম্বারগিনি চড়তে পারে এ কল্পনার অতীত!!!

কিন্তু পাঞ্জাব পারে, পাঞ্জাবের চাষীরা পারে। কারণ কী জানেন? পাঞ্জাবে সিপিএম ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল না৷ ওখানে ‘সবুজ বিপ্লব’ হয়েছিল। আর বাংলাতে, ‘ভূমি সংস্কার আর বর্গা’-র ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলার কৃষির গলা টিপে ধরেছিল বামেরা৷ ছোট ছোট জমি বানিয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে নষ্ট করেই খান্ত হয়নি এরা! এরপর যখন দেশে প্রথম ট্রাক্টর এল, এরা বিরোধিতা করল। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে বলল, কৃষি শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নিয়ে ট্রাক্টর রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পঞ্জাবের (কৃষি জমির মালিক) চাষীরা যাস্ট দু’হাত তুলে স্বাগত জানাল ট্রাক্টরকে৷ এরপর একইভাবে পাওয়ারটিলার(হ্যান্ডট্রাক্টর), ধানকাটার স্বয়ংক্রিয় মেশিন, যা কিছু নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন সামনে এল সিপিএম তার বিরোধ করল৷ এভাবে পচিমবঙ্গের কৃষিকে ১০০ বছর পিছিয়ে দিয়ে বামেরা বিদায় নিল।

যদি কেউ বর্গা ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন তাহলে তাঁর চোখে পঞ্জাবের কৃষকরা জোতদারা ছাড়া আর কিছু হওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু সিপিএম এবং বামপন্থীরা-ই একমাত্র হিপোক্রেট যারা বর্গাকেও সমর্থন করে আবার ইদানিংয়ে পঞ্জাবের জোতদার কৃষকদেরও সমর্থন করছে৷

এবার আসি ছোট জমির অসুবিধে টা কোথায়? প্রথম অসুবিধে ছোটছোট জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা যায় না৷ না যায় স্বয়ংক্রিয় ধানকাটার মেশিন দিয়ে ফসল ঘরে তোলা। একটানা বেশি পরিমানে একই জিনিস চাষ করা যায় না৷ জলসেচের ব্যবস্থা করা যায় না।

আরও একটা বড় সমস্যা হল ভূমি সংস্কার, বর্গা, হেনা তেনা করে পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের একক মালিকানায় থাকা জমির পরিমান তলানিতে। এবার যেহেতু জমির পরিমান কম তাই সরকারিভাবে কৃষিঋণ ও কম পান পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা৷ একটা ঘটনা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, UPA-1 কিংবা UPA-2 (ঠিক খেয়াল নেই) এর আমলে একবার বকেয়া কৃষিঋণ মুকুব হয়েছিল দেশে। তখন পেপারে পড়েছিলাম পঞ্জাবের এক একজন কৃষকের ১০-১৫ লাখটাকার ঋণ ছিল৷ তারা ঋণমুকুবে লাভবান হয়েছেন৷ কিন্তু বাংলার কৃষকরা? পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা এর এক তৃতীয়াংশও কৃষিঋণ পাননি!

সিপিএম এখন খুব করে চাইছে বাংলাতেও একটা কৃষক আন্দোলন হোক। তাহলেই তারা ঘুরে দাঁড়াবে৷ কিন্তু সত্তর দশকের শেষের দিকে ক্ষমতায় এসে সিপিএম নিজের হাতেই বাংলার কৃষকদের আন্দোলনে যাবার রাস্তায় কাঁটা ফেলেছিল সযত্নে।

এবার আসি দিল্লির সিংঘু বর্ডারের কৃষক আন্দোলনে। জন্ম থেকে সিপিএম ও বামেরা চিৎকার করে আসছে চাষী ও ক্রেতাদের মধ্যে কোনও ‘মিডল ম্যান’ থাকবে না। এবার নতুন কৃষিবিলে ঠিক এই ‘মিডল ম্যান’/’মান্ডি’ ব্যবস্থাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে ভারত সরকার৷ কিন্তু অবাকভাবেই এতেও সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা বামেরাই করছে!

দেখবেন কৃষক আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে গাধা ভামগুলো উপর চালাকি করে কিছু শপিংমলে ছবি মার্কেটে ছাড়ছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে একটা ভুট্টার দাম ৩০০ টাকা কিংবা একটা ফুলকপির দাম ২০০ টাকা৷ এই ছবির নীচে বামেরা লিখছে দেখো দেখো মোদী সরকার এরকমটাই চাইছে, চাষীর কাছে একটাকায় ফুলকপি আর ৫০ পয়সাতে ভুট্টা কিনে আমবানী আদানীরা তাদের শপিং মলে এত এত টাকায় বেচছে। এবার এখানে সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন হতে পারে, ‘এখন তো মান্ডি ব্যবস্থা আছে৷ এত বছর ধরে তাই ছিল। নতুন কৃষিবিল তো ছিল না। তো এখন কি শপিংমলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে৷ নাকি শপিংমলে ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে না। নাকি চাষীদের থেকেও কম দামে ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে শপিংমলে? এখন আদানী আমবানীরা কোথায় পাচ্ছে এই শাকসব্জীগুলো কেনার সুযোগ? কার কাছ থেকে কিনছে? সহজ উত্তর – মান্ডি থেকে৷

মানে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো আদানী আমবানীরা চাইলে মান্ডি থেকে কৃষিজাত পন্য কিনতেই পারেন, বেচতেও পারেন নিজেদের শপিংমলে। কিন্তু চাষীদের থেকে সরাসরি কিনতে পারবেন না। বাহ জি বাহ, ভেরী গুড সলিউশন হ্যায় জি….

মান্ডি ব্যবস্থায় পঞ্জাবের ছোট কৃষকরা বরাবর শোষিত হয়ে আসছেন। এলাকার মান্ডিগুলির মালিকানা অনেকাংশে জাঠদের হাতে। মান্ডিতে নিলামের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের মধ্যে ছক করে কোনও ফসলের দাম বাড়তে দেওয়া হয় না৷ যারা নিলামে দর হাঁকেন সেই মজুতদার বা মান্ডির মালিকরা আগেই ঠিক করে নেন এবার টমেটোর দাম ৭ টাকা কিলোর বেশি ওঠাবো না৷ অতয়েব চাষীরা বেশি দাম আশা করলেও কোনও উপায় থাকে না। মান্ডি নির্ধারিত দামেই ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন।

এই মান্ডি ব্যবস্থা যে কোনও দেশের কৃষকদের জন্য ভয়ঙ্কর অভিশাপ ছাড়া কিছুই নয়। আর কৃষিতে মিডলম্যান সরাও মিডলম্যান সরাও দাবী করে আসা বামেরা এই মান্ডির সমর্থনে আজ রাস্তায়! কেন? সহজ উত্তর, ভারত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে যদি আইসিস ডেরাতেও কোনও ষড়যন্ত্র হয়, বামেরা সেটাকেও ‘ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন’ বলে সেটাতেও যোগ দেবে৷
দ্বিতীয়ত, নরেন্দ্র মোদী যদি ‘মিডল ম্যান’ ব্যবস্থাকেই সরিয়ে দেন তাহলে বামেরা আগামীদিনে কি নিয়ে আন্দোলন করবে? দেখুন আর যাই হোক বামেদের প্রতিদিনের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া ঠিক না!

জাতীয়

হিন্দু সন্তানের ধর্ম বদলে বিপাকে মুসলিম মা

Published

on

By

রায়পুর: এও যেন এক লাভ জিহাদ। তবে ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকার ধর্ম বদল করা নয়। ভিন্ন পথে ধর্ম বদল করার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিজের গর্ভে হিন্দু পুরুষের ঔরস্পজাত সন্তান ধারণ কর পরে সেই সন্তানের ধর্ম বদলের অভিযগ উঠল মহিলার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিলা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সেই মহিলার সঙ্গে এক হিন্দু যুবকের বিয়ে হয়। ভালোবেসেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওই দম্পতি। কিন্তু বিয়ের পরে ধর্ম বদলের জন্য অভিযুক্ত মহিলা চাপ দিতো বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী।

এরপরে নিজের নাবালক সন্তানের ধর্ম বদল করে দেওয়ার অভিযগ উঠেছে ওই মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে এমনই অভিযগ করেছেন তাঁর স্বামী। ওই যুবক জানিয়েছেন যে তাঁর মুসলিম স্ত্রী তাঁদের নাবালক পুত্রসন্তানের ধর্ম বদলে মুসলিম করে দিয়েছে। নাম বদলে আরবি নামকরীন করেছে। যেমন মুসলিমদের হয়ে থাকে। কোনও উপায় না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই যুবক।

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের সান্না থানা এলাকার। অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। স্থানীয় যশপুর এলাকার এএসপি প্রতিভা পাণ্ডে জানিয়েছেন যে মহিলার বিরুদ্ধে সংবিধানের মৌলিক অল্ধিকার ধর্মের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

Continue Reading

জাতীয়

৫টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দাপট বেশি

Published

on

By

নয়াদিল্লি: শনিবার ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দাপট বেশি কারণ বিজেপি দল চারটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে – উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুর, যখন কংগ্রেস পাঞ্জাব রাজ্যে শাসন করছে।

বিজেপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল এই চারটি রাজ্য ধরে রাখা নয়, পাঞ্জাবে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি অনুভব করাও যা বিজেপি দল অমরিন্দর সিংয়ের পাঞ্জাব লোক কংগ্রেস এবং সুখদেব সিং ধীন্ডসার শিরোমণি আকালি দলের সাথে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ক্ষমতাসীন বিজেপি চারটি রাজ্য ধরে রাখতে এবং পাঞ্জাব জিততে কোন কসরত রাখছে না কারণ এই নির্বাচনটি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দেশে রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি করবে।

উত্তরপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির পরাজয় বিরোধীদের শক্তিশালী করবে এবং বিরোধী ঐক্যের বিষয়ে বহু আলোচিত ব্যক্তিদের হাতের মুঠোয় দেবে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশ ধরে রাখলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির সম্ভাবনা বাড়বে।

উত্তরপ্রদেশে সাত ধাপে ভোট হবে – ফেব্রুয়ারি ১০, ১৪, ২০, ২৩, ২৭, মার্চ ৩ এবং ৭ মার্চ।

“এটি সর্বদা বিশ্বাস করা হয় যে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল লোকসভা নির্বাচনের জন্য সুর নির্ধারণ করবে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবারও এজেন্ডা নির্ধারণ করবে বিজেপির পক্ষে বা এর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের রানআপে। সাধারণ নির্বাচন। উত্তরপ্রদেশ, ৪০৩টি বিধানসভা এবং ৮০টি লোকসভা আসন সহ বৃহত্তম রাজ্য, রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, “একজন বিজেপি নেতা বলেছেন।

বিরোধীদের অভিযোগকে ভোঁতা করতে — তার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা-বিরোধীতার অস্তিত্ব, দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় কোভিডের অব্যবস্থাপনা, কৃষকদের বিক্ষোভ এবং অন্যান্য বিষয়গুলির জন্য, বিজেপি আক্রমনাত্মকভাবে উন্নয়নমূলক বিষয়গুলিতে আঁকড়ে আছে যা শুধুমাত্র রাজ্যের উন্নয়নের উপর জোর দেয়। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কারণে।

বিজেপি অবশ্য দাবি করে যে তার কোনও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষমতা-বিরোধীতা নেই এবং গত পাঁচ বছরে গৃহীত বেশ কয়েকটি পরিকাঠামোগত প্রকল্প এবং কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি তুলে ধরে।

২০১৭ সালের নির্বাচনে, ৪০৩ বিজেপি  সদস্যের বিধানসভায় প্রায় ৩২৫ টি আসন জিতে তার জোটের অংশীদারদের সাথে উত্তরপ্রদেশকে সুইপ করেছিল। এবার সমাজবাদী পার্টি (এসপি) বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিজেপি দলটি এসপি-আরএলডি জোট নিয়েও কিছুটা চিন্তিত যা পশ্চিম উত্তর প্রদেশে এর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

বিজেপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানুষ। “সব ৪০৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘জন আশির্বাদ যাত্রা’ চলাকালীন আমরা যে ভালবাসা এবং আশীর্বাদ পেয়েছি তা স্পষ্টতই দেখাচ্ছে যে লোকেরা ইতিমধ্যে রাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপি সরকারকে নির্বাচন করার জন্য তাদের মন তৈরি করেছে,” তিনি বলেছিলেন।

বিতর্কিত তিনটি খামার আইনে  ২০২০ সালে শিরোমনি আকালি দলের (এসএডি) সাথে তার জোট শেষ হওয়ার পরে বিজেপি পাঞ্জাবে রাজনৈতিক স্থল অর্জনের জন্য আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাচ্ছে। জাফরান দলের নেতারা বিশ্বাস করেন যে পাঞ্জাব লোক কংগ্রেস এবং শিরোমনি আকালি দল (সংযুক্ত) রাজ্যে রাজনৈতিক লাভ করবে। ফলাফল আরও দেখাবে যে তিনটি খামার আইন বাতিল করা বিজেপি এবং তার জোটের অংশীদারদের উপকার করেছে কিনা পাঞ্জাবে।

গোয়ায়, যেখানে বিজেপি ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং তার সবচেয়ে বড় নেতা মনোহর পারিকরের মৃত্যুর পরে প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, আম আদমি পার্টি (এএপি), কংগ্রেস এবং আত্মপ্রকাশকারী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে (টিএমসি)।

উত্তরাখণ্ডে, চার মাসে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করে বিজেপির লাভ হয়েছে কি না, তা বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পরে পাওয়া যাবে। মার্চ মাসে ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তীরথ সিং রাওয়াতকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী করেছিল বিজেপি। জুলাইয়ে তীরথ সিংকে পুষ্কর সিং ধামির পরিবর্তে নেওয়া হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে টিরও বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে বিজেপি। ২০১৭ সালের শেষ বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপি ৫৭টি আসন জিতেছিল।

পাঞ্জাব, গোয়া ও উত্তরাখণ্ডে ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

বিজেপি গত পাঁচ বছরে উন্নয়নের ইস্যুতে মণিপুরকে ধরে রাখতে চাইছে এবং ‘বন্ধ, অবরোধ’মুক্ত রাজ্য। ২০১৭ সালের মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৬০ টি আসনের মধ্যে ২১ টি জিতেছিল এবং আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল।

মণিপুরে দুই দফায় ভোট হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ।

Continue Reading

জাতীয়

নাগপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন দুই মহিলা বাঙালি চিকিৎসক

Published

on

By

মুম্বই: কথায় আছে ভালোবাসা অন্ধ হয়। অনেক নিয়ম ভেঙে নিজের ছন্দে চলতে আগ্রহী। সমাজের চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে অন্য পথে হাঁটে ভালোবাসা। একজন নারী এবং পুরুষ ছাড়াও দুইজন পুরুষ বা নারীদের মধ্যেই গড়ে উঠতে পারে ভালোবাসার সম্পর্ক। সেই সকল সম্পর্কের বিয়ে আগে অনেক দেখা গিয়েছে।

তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমের রাজ্য মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যের নাগপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দুই মহিলা। যারা দু’জনেই পেশায় চিকিৎসক। সংঘের শহরের বাসিন্দা ওই দুই মহিলা আবার বাঙালি। যাদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সমগ্র দেশ জুড়ে। গত সপ্তাহে এনগেজমেন্টের পরে চলতি সপ্তাহে বিয়ে করেছেন তাঁরা।

আলোচিত দুই চিকিৎসক হলেন পারোমিতা মুখোপাধ্যায় এবং সুরভি মিত্র। ওই দম্পতি নিজেদের সম্পর্কে দাম্পত্য বলতে নারাজ। পারোমিতার মতে এই সম্পর্ক হচ্ছে ‘আজীবনের অঙ্গিকার’। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের সম্পর্কে ‘আজীবনের অঙ্গিকার’ বা লাইফটাইম কমিটমেন্ট বলে থাকি।” গোয়ার সৈকতে একটা জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

এই সমকামী বিবাহ নিয়ে এখনও সমাজে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। আইনত বৈধতে মিললেও সামাজিক বৈধতা এখনও পায়নি এই প্রকারের বিয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল এই চিকিৎসক যুগলের মধ্যেও। পারমিতা বলছেন, “২০১৩ সাল থেকেই আমার বাবা জনতেন যে আমি সমকামী। মাকে যখন বলেছিলাম তখন খুব অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু পরে সব মেনে নিয়েছিলেন। কারণ মা চান যে আমি সুখে থাকি।”

অপরজন অর্থাৎ সুরভি মিত্র বলেছেন, “আমার সমকামিতা নিয়ে আমার পরিবারে কখনই কোনও সমস্যা হয়নি। আমার পিতামাতা এই বিষয়টি শুনে খুশি হয়েছিলেন। আমি এখন মনোবিদ, অনেকেই দ্বৈত স্বত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আসলে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন না।”

Continue Reading

Trending