Connect with us

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় উগ্রপন্থার ব্যবসা এখন আর সম্ভব নয় : মুখ্যমন্ত্রী

Published

on

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর: উগ্রপন্থার ব্যবসা এখন আর ত্রিপুরায় চলবে না৷ উগ্রপন্থীদের হাতিয়ার করে রাজনীতি করাও যাবেনা৷ কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ রোজগারের পাশাপাশি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুযোগ-সুবিধা পৌছে দেওয়া হয়েছে৷ তাই, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থা ফিরে আসবে, অযথা ভীত সন্ত্রস্থ হবেন না৷ আজ বিধানসভায় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য আশীষ কুমার সাহার উত্থাপিত বেসরকারী প্রস্তাবের জবাবে এভাবেই অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ সাথে তিনি আশ্বস্ত করেন, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়-বিচারের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করে তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিবেচনা করা হবে৷

আজ বিধানসভায় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য আশীষ কুমার সাহা বেসরকারী প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে চলে আসা নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থীদের দ্বারা ত্রিপুরায় খুন, সন্ত্রাস ও অপহরণের মত ঘৃণ্য ঘটনাগুলির পিছনে কোন রাজনৈতিক দল, সংস্থা কিংবা ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল বা এখনো রয়েছে, তা জনসম্মুখে তোলে ধরার উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে শীঘ্রই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য ত্রিপুরা সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করুক৷ এদিন উগ্রপন্থী ইস্যুতে বামেরাই কার্যত তাঁর নিশানায় ছিলেন৷ তিনি বলেন, বাম জমানায় মন্ত্রী, বিধায়ক উগ্রপন্থার বলি হয়েছেন৷ বহু নেতা, কর্মী অপহৃত হয়েছেন৷ সেই কালো অধ্যায় ত্রিপুরায় আবারও ফিরে আসছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে৷

তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন এগিয়ে আসলেই ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় উগ্রপন্থীদের ব্যবহার অতীতে ত্রিপুরাবাসী দেখেছেন৷ ত্রিপুরায় এক সময় উগ্রপন্থীরা অবাধে খুন, লুট চালিয়েছে৷ তাদের গুলিতে বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য খুন হয়েছেন৷ অথচ, ওই খুনের ঘটনায় গঠিত ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট আদালতের হস্তক্ষেপে বামফ্রন্ট সরকার বাধ্য হয়ে প্রকাশ করেছে৷ তিনি রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, বৈরী হামলায় প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রীর সাথে উগ্রপন্থীর যোগাযোগ ছিল, ইউসুফ কমিশনের রিপোর্টে সাফ উল্লেখ রয়েছে৷ সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত কিছু জেনেও মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন৷ সাথে তিনি যোগ করেন, উগ্রপন্থীদের সাথে রাজনৈতিক দলের যোগাযোগ রয়েছে ইউসুফ কমিশনের রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে৷ তাই, কমিশন গঠন করে উগ্রপন্থার মদতদাতাদের খুঁজে বের করা খুবই প্রয়োজন বলে মনে করি৷ পাশাপাশি, উগ্রপন্থী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন তিনি৷

এদিন ওই বেসরকারী প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য দিবাচন্দ্র রাঙ্খল বলেন, অতীতে কার নির্দেশে উগ্রপন্থার জন্ম হয়েছে তা জানা খুবই প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে আত্মসমর্পনকারী বৈরীদের জিজ্ঞাসাবাদে সমস্ত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন৷ ট্রেজারি বেঞ্চের আরেক সদস্য আশীষ দাসও উগ্রপন্থী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছেন৷ তবে, এদিন ওই বেসরকারী প্রস্তাবে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য শংকর রায় এবং অরুন চন্দ্র ভৌমিক৷ তাঁদের বক্তব্য, শুধু উগ্রপন্থী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে৷ কারণ, দীর্ঘ বাম শাসনে বহু মানুষ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন৷ তাঁরাও পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়ার অধিকারী৷

ওই বেসরকারী প্রস্তাবের উপর আলোচনা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সকলকে আশ্বস্ত করেন, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থার ব্যবসা এখন আর চলবে না৷ কারণ, মানুষের কাছে রোজগার পৌছে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জনজাতি অংশের মানুষ৷ তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বামফ্রন্ট সরকারকে দায়ী করেছেন৷ তাঁর দাবি, উগ্রপন্থার জন্ম হলে উন্নয়নের জন্য কেউ চিত্কার করবে না৷ তাতে, উন্নয়নের অর্থ লুটেপুটে খাওয়া যাবে, এমনটাই মানসিকতা ছিল পূর্বতন সরকারের৷ তাঁদের মানসিকতা ছিল উগ্রপন্থার বাজার টিকিয়ে রাখা৷ তাতে, ভয় পরিবেশ কায়েম হবে৷ কিন্ত, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পর উগ্রপন্থার শিকর উপরে ফেলা হয়েছে৷

তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী উগ্রপন্থার ব্যবসা করার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ উগ্রপন্থী সমস্যার সমাধান করেছেন৷ তাই, উগ্রপন্থীদের সহায়তায় নির্বাচনে জয়ী হওয়া এখন সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, মানুষের কাছে রোজগার পৌছে দেওয়া হয়েছে৷ শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সুবিধা মানুষের কাছে পৌছে যাচ্ছে৷ তাছাড়া, ২০২২ সালের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্ত রাজ্যে সীমান্তে কাটা তারের বেড়া নির্মানের কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে৷ ফলে, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থীদের নিয়ে রাজনীতি সম্ভব হবে না৷

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আশ্বস্ত করেন, উগ্রপন্থী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়-বিচারের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে৷ তবে, কমিশন গঠন করে উগ্রপন্থা দমন সম্ভব হবে না৷ এদিন তিনি জোর গলায় বলেন, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থার ব্যবসা আর সম্ভব হবে না৷ তাই, অযথা চিন্তিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, অভয় দিয়ে বলেন তিনি৷

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ত্রিপুরা

পশ্চিম জেলা সব সমগ্র রাজ্যে করোনা সংক্রমন গ্রাফ – ক্রমশ নিন্মমুখী

Published

on

By

বর্বত্র করোনা সংক্রমনের বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই, সময়োপযোগী সঠিক ব্যবস্থাপনায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে তরাজ্যে।  বিভিন্নস্থানে যখন লাগামহীন বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার, ঠিক তখনই ত্রিপুরায় উল্লেখযোগ্য ভাবে, করোনা সংক্রমন নিম্নমুখী। গত কয়েকদিনের করোনা সংক্রমনের তথ্য থেকে তা স্পষ্ট। গত ১৭ জানুয়ারি রাজ্যব্যাপি করোনা সংক্রমনের হার ছিল ১৪.৮৬ শতাংশ। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় এই সংক্রমণের হার ছিল ১৮.৫৫ শতাংশ। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানেই, ২১ জানুয়ারির করোনা রিপোর্ট অনুসারে রাজ্যব্যাপি করোনা সংক্রমনের হার প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১.১৬ % ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সংক্রমণের হার প্রায় ৭.৫ % কমে দাঁড়িয়েছে ১১.২৬ শতাংশ l একদিকে যেমন নেমে আসছে সংক্রমিত সংখ্যা, অন্যদিকে বাড়ানো হয়েছে করুণা পরীক্ষার হার। করোনা পরীক্ষাসংক্রান্ত সহজাত প্রবৃত্তি হলো, পরীক্ষার বা টেস্টিং এর সংখ্যা যতটা বাড়ে, ততই পজিটিভিটি রেটও বাড়তে থাকে। কিন্ত ত্রিপুরার ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষা বা টেস্ট এই সংখ্যা বাড়লেও, উল্টো কমেছে পজিটিভিটি রেট। রাজ্য সরকারের সমযয়োপযোগী ব্যবস্থাপনার ফলে ত্রিপুরাতে এখনো পর্যন্ত ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের খবর নেই l কোভিডের প্রথম এবং দ্বিতীয় টিকাকরণের সাফল্যের স্থাপনেই আত্ম সন্তুষ্টিতে ভোগেনি ত্রিপুরা সরকার l গোটা দেশের সামনে আরও এক নজির স্থাপন করে, টিকাকরনের আওতায় না আসা ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব অসুস্থ কৈশোর প্রকল্প এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে । এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল, বিভিন্ন রোগ প্রদুর্ভাব থেকে এই বয়সের ছেলেমেয়েদের রক্ষা ও মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা l বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে করোনা সংক্রমণ প্রতিহত করা বা সংক্রমিত ব্যক্তিদের এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করার অন্যতম শর্ত হচ্ছে দৈহিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা l অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্য সরকার মিশন মুডে এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়স সীমার প্রায় সমস্ত ছেলেমেয়েদের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসে l পরবর্তী সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রান্তিক এই রাজ্যের পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে বিভিন্ন রাজ্যগুলিও l স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে পাহাড়, নদী, নালা অতিক্রম করে এমনকি ফসলের জমিতে পর্যন্ত গিয়ে মানুষকে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে এসেছে তা গোটা ভারতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে l সম্প্রতি ১৫ থেকে @৮ বছরের মধ্যবর্তী ছেলেমেয়েদের টিকাকরণের অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে ত্রিপুরায় l ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মিশন মুডে রাজ্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগে, এই বয়সের ছেলেমেয়েদের বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচির ফলে অধিকাংশ স্কুল নির্দিষ্ট বয়সের ছেলেমেয়েদের টিকাকরণ সম্পন্ন করে নিয়েছে l এই টিকাকরণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব l বলা বাহুল্য, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন উন্নত রাজ্যগুলি যখন হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখনই, ত্রিপুরার স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের দিশা নির্দেশে, সাফল্যের ইতিবাচক নজির রাখছে ত্রিপুরা সরকার। করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় টিকাকরনের সাফল্যের দৃষ্টান্ত রেখেছিল ত্রিপুরা। টিকাকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন, সঠিক ব্যবস্থাপনা, সবেতেই সময়ের আগে উদ্যোগ নিয়েছিলো ত্রিপুরা সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য দপ্তরের ওপর দায় ভার ছেড়ে না দিয়ে, কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায়, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে সরজমিনে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে গোটা রাজ্য চষে বেরিয়েছেন, তারই ফলশ্রুতিতে ত্রিপুরা এই সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে । সম্প্রতি রাজ্যের সমস্ত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। রাজ্যে গড়ে উঠেছে বাইশটি অক্সিজেন প্লান্ট। যা কোভিড রোগীদের সহায়তার পাশাপাশি গতানুগতিক চিকিৎসা পরিষেবাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ অক্সিজেন প্লান্ট হতে চলেছে ত্রিপুরায়।  গত ১৬ জানুয়ারি তথ্য অনুসারে  করোনা সংক্রমন থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়েছিলেন ১৪৩ জন। এক্ষেত্রেও মিলেছে সাফল্য। করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা যথাক্রমে ১৭ জানুয়ারি ৪৯২ জন l ক্রমান্বয়ে ২০ জানুয়ারি ৮৭২ জন সুস্থ হয়েছেন l এক কথায় কোভিড মোকাবিলায় রাজ্যে জন্য সস্থির খবর বলা চলে l 

Continue Reading

ত্রিপুরা

কোভিড টিকাকরণের বর্ষপূর্তি : অরুন্ধুতীনগরে টিকাকরণ কেন্দ্র পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনাতেই দেশীয় প্রযুক্তিতে কোভিড টিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর সুযােগ্য নেতৃত্বে এক বছর আগে আজকের দিনেই স্বদেশীয়ভাবে প্রস্তুত কোভিড টিকাকরণের সূচনা হয়েছিল। দেশের নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশব্যাপী বড় মাত্রায় টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে। আজ অরুন্ধুতীনগর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড টিকাকরণ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অরুন্ধুতীনগর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে সেই স্থানটি আজ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব পরিদর্শন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় ভারতের মতাে বিশাল জনসংখ্যার দেশে
অল্প সময়ের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে কোভিড টিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর এই দিন থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী টিকাকরণ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫৭ কোটি ডােজ প্রদান করা হয়েছে। মােট কোভিড টিকার ডােজ গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৭৬ কোটি ডােজ মহিলারা নিয়েছেন। জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি ও ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে মােট টিকার ডােজের মধ্যে ৯৯ কোটি কোভিড টিকার ডােজ গ্রামীণ এলাকায় দেওয়া হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে নগর কেন্দ্রীকতার বদলে টিকাকরণের সুফল সমগ্র দেশব্যাপী বিকেন্দ্রীকরণ করা সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গতকালের তথ্যানুসারে, আগরতলা পুর নিগম এলাকায় সংক্রমণের হার ২৮.২৩ শতাংশ ও সমগ্র রাজ্যে গড় সংক্রমণের হার প্রায় ১৩ শতাংশ l এদিন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে, আতঙ্কিত না হয়ে, যথার্থ স্বাস্থ্যবিধি ও অত্যাবশকীয় নীতি নির্দেশিকা প্রতিপালনের লক্ষ্যে সবার প্রতি আহ্বান রাখেন। তিনি বলেন, ভােটার তালিকা অনুসারে ত্রিপুরায় কোভিড টিকার প্রথম ডােজ ৯৯.৫৩ শতাংশ ও দ্বিতীয় ডােজ ৮২.৩৫ শতাংশ প্রদান করা হয়েছে। তার পাশাপাশি ১৫-১৮ বছর বয়সীদের টিকাকরণ প্রক্রিয়া রাজ্য সফলভাবে বাস্তবায়িত
হচ্ছে। যার গড় প্রায় ৪২ শতাংশ। এক্ষেত্রে আরও দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বয়সের ছেলেমেয়েদের
টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণে সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে। কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচি
পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী, সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, বিধায়ক মিমি মজুমদার, বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, পরিবার কল্যাণ ও রােগ প্রতিরােধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল প্রমুখ।

Continue Reading

ত্রিপুরা

ড্রাগ-এইচআইভি মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার শপথ মুখ্যমন্ত্রীর

Published

on

By

আগরতলা: ভাবী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধশালী ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেরাজ্য সরকার। নিষিদ্ধ ড্রাগ ও এইচআইভি মুক্ত রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরাকে গড়ে তুলতে সবার সজাগ দৃষ্টি ও অঙ্গীকারবদ্ধ প্রয়াস প্রয়ােজন। আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়ােজিত নেশামুক্ত ত্রিপুরা শীর্ষক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নং প্রেক্ষাগৃহে বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চ ও ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সােসাইটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়ােজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নেশামুক্ত ত্রিপুরার শপথ বাক্য পাঠ করান পদ্মশ্রী প্রাপ্ত জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। অনুষ্ঠানে গােলাঘাটি নিবাসী সপ্তম শ্রেণীতে পাঠরতা পূর্ণিমা দাস কোভিড আক্রান্ত রােগীদের সুশ্লষার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। তার পিতা পরিমল দাস পেশায় কৃষক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিরিঞ্জের মাধ্যমে ব্যবহৃত নেশা দ্রব্য ও অন্যান্য নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্যের ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবক সহ সবার সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়ােজন। সিরিঞ্জ জাতীয় নেশাদ্রব্যের ব্যবহারের ফলে যুব সম্প্রদায়ের একটা অংশ এইচআইভি সংক্রমিত হয়ে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থান সহ যেখানেই এই ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে বলে সন্দেহ হবে তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আনা প্রয়ােজন। যারাই যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে এ ধরনের অশুভ কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরনির্ভরশীলতার মানসিকতা কাটিয়ে লক্ষ্যপ্রাপ্তির পথে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধতা সাফল্যের পথে গতি সঞ্চারিত করে। যুব সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা ও পরম্পরার অগ্রণী পরিচায়ক ব্যক্তিত্ব। শিকাগােতে ভারতীয়ত্ব নিয়ে জগৎ সভায় নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। যুব সম্প্রদায়কে এক সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের দিশা নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যের কথা আলােচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভােকাল ফর লােকাল ভাবনায় স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি স্বরােজগারি মানসিকতায় বর্তমান আত্মনির্ভর যুব

উদ্যোগীরাই অন্যদের কর্মসৃজনের পথ সুগম করছে। তার পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রের প্রচার এবং প্রসারে বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আলােকপাত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের সমৃদ্ধির পথে বিশেষ করে পর্যটকদের রাজ্যমুখী করার ক্ষেত্রে যারাই অন্তরায় হবেন এই

বিষয়টিকে রাজ্য কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চের সভাপতি রাজীব ভট্টাচাৰ্য বলেন, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বিবেকানন্দ

বিচার মঞ্চ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। যার অন্যতম লক্ষ্য নিজে নেশাদ্রব্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা ও অন্যদের নেশাদ্রব্য ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা। তার পাশাপাশি এইচআইভি মুক্ত রাজ্য নির্মাণের লক্ষ্যে সচেতনতা তৈরি করা। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা এইডস কন্ট্রোল

সােসাইটির স্টেট প্রজেক্ট ডিরেক্টর তথা পরিবার কল্যাণ ও রােগ প্রতিরােধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা বলেন, যুব সম্প্রদায়ই হচ্ছে সমাজের মেরুদন্ড। পড়াশুনার পাশাপাশি তাদের সুস্থ মানসিকতা এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে তাদের নেশার অশুভ সংস্পর্শ মুক্ত রাখা প্রয়ােজন। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার যে স্বপ্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেখেছেন তার সফল বাস্তবায়নে দপ্তর অঙ্গীকারবদ্ধভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পদ্মশ্রী জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার বলেন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া অভ্যাস সুস্থ দেহ ও মননের পাশাপাশি নেশার মতাে অশুভ শক্তি থেকে দূরে রাখে। লক্ষ্যের পথে দৃঢ়তা সাফল্য প্রাপ্তির পথকে মসৃণ করে। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চের সহসভাপতি অমিত রক্ষিত, সম্পাদক তপন দাস প্রমুখ।

Continue Reading

Trending