Connect with us

জাতীয়

রাজন্য স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাস ও ঐতিহ্যই হলো রাজ্যের মূল শক্তি, মহারাজা বীরবিক্রমের জন্ম জয়ন্তীতে প্রত্যয়ের সুর মুখ্যমন্ত্রীর

Published

on

আগরতলা, ১৯ আগস্ট : মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণ ছিলেন আত্মপ্রচার বিমুখ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এক মহান ব্যক্তিত্ব। রাজ্যবাসীর হৃদয়ে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে। আধুনিক ত্রিপুরা গড়ার যে প্রয়াস তিনি নিয়েছিলেন তা আজও আমাদের প্রেরণা দেয়। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভর ত্রিপুরা নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আজ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণের ১১৩তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের সদস্য মহারাজা প্রদ্যুৎ বিক্রম কিশোর মাণিক্য দেববর্মণ, রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ দেব, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব পি কে গোয়েল ও অধিকর্তা রতন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণ ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এক বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব৷ আধুনিক ত্রিপুরা গড়ার ভাবনায় তাঁর নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যে ত্রিপুরাকে শিক্ষা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভূত উন্নতির শিকড়ে পৌঁছে দেয়। তাঁর নির্দেশিত পথে হাঁটলে আরও আগেই শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা নির্মাণ করা সম্ভব হতো। বর্তমান সরকার তাঁর ভাবনায় আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী ত্রিপুরা নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু ভারতীয় বা রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন একটি ভিন্ন মানসিকতাকে বিগত দিনে রাজ্যে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরার প্রকৃত ইতিহাস বা রাজাদের অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে রাজ্যবাসীকে সুকৌশলে মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার ত্রিপুরার উন্নয়নে মহারাজাদের যে অবদান ছিলো তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ত্রিপুরার রাজন্য স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিই হলো রাজ্যের মূল শক্তি৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহারাজার প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহারাজার জন্মজয়ন্তী দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা, সরকারিভাবে মহারাজার জন্মজয়ন্তী পালনের উদ্যোগ সহ আগরতলা বিমানবন্দরের নাম মহারাজা বীরবিক্রম কিশোরের নামে নামাঙ্কিত করা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছে। ত্রিপুরার ভারত ভুক্তিতে মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু রাজাদের ইতিহাস সর্বোপরি ত্রিপুরার ইতিহাসের প্রতি বিগত দিনে প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়নি। মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। সঠিক মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাজ্য সরকারও শিক্ষার ভিতকে আরও সুদৃঢ় করতে এনসিইআরটি পাঠক্রম চালু, ১০০টি বিদ্যালয়কে সিবিএসই-র আওতায় আনা, ১৮টি একলব্য বিদ্যালয় স্থাপনের মতো একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে। বঞ্চনার স্লোগানের বদলে সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশে সরকার বিশ্বাসী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক ক্ষেত্র, পানীয়জল সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাপকাঠিতে রাজ্যে বহুলাংশেই অগ্রগতি হয়েছে। রাজ্যের জনজাতিদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ত্রিপুরার অর্থনীতি পিছিয়ে যায়নি। রাজ্যের জনজাতিদের সম্মানে গড়িয়া পূজায় সরকারি ছুটি দু’দিন করা, বড়মুড়া পাহাড়ের নাম হাতাইকতর করা, সমাজপতিদের সামাজিক ভাতার ব্যবস্থা, টিটিএএডিসির আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা সহ টিটিএএডিসির নামকরণ তিপ্রা টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রিয়াংদের পুনর্বাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে। সুষ্ঠু কর্মসংস্কৃতি ও শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার রক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যে স্বরোজগারের মানসিকতা গড়ে উঠেছে। কাঁঠাল ও আনারস সহ বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যে রোজগারের নতুন দিশা দেখাচ্ছে। কিন্তু একটা অংশ বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে লিপ্ত রয়েছে। এইসব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের সার্বিক প্রচেষ্টায় ত্রিপুরা কোভিড টিকাকরণে সমগ্র দেশে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে৷

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দিল্লির সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ, একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন, উন্নত হাইওয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হীরা মডেলের বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের উন্নয়নে আরও গতি আসছে। রাজ্যের গর্ব রোসেম বাদক থাঙ্গা ডার্লং, সত্যরাম রিয়াং ও বেণীচন্দ্র জমাতিয়ারা নিজেদের শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল কর্মকান্ড বহুকাল ধরে চালিয়ে আসলেও বর্তমানে তাদেরকে খুঁজে বের করে সম্মানিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানেই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাতীয়

হিন্দু সন্তানের ধর্ম বদলে বিপাকে মুসলিম মা

Published

on

By

রায়পুর: এও যেন এক লাভ জিহাদ। তবে ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকার ধর্ম বদল করা নয়। ভিন্ন পথে ধর্ম বদল করার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিজের গর্ভে হিন্দু পুরুষের ঔরস্পজাত সন্তান ধারণ কর পরে সেই সন্তানের ধর্ম বদলের অভিযগ উঠল মহিলার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিলা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সেই মহিলার সঙ্গে এক হিন্দু যুবকের বিয়ে হয়। ভালোবেসেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওই দম্পতি। কিন্তু বিয়ের পরে ধর্ম বদলের জন্য অভিযুক্ত মহিলা চাপ দিতো বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী।

এরপরে নিজের নাবালক সন্তানের ধর্ম বদল করে দেওয়ার অভিযগ উঠেছে ওই মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে এমনই অভিযগ করেছেন তাঁর স্বামী। ওই যুবক জানিয়েছেন যে তাঁর মুসলিম স্ত্রী তাঁদের নাবালক পুত্রসন্তানের ধর্ম বদলে মুসলিম করে দিয়েছে। নাম বদলে আরবি নামকরীন করেছে। যেমন মুসলিমদের হয়ে থাকে। কোনও উপায় না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই যুবক।

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের সান্না থানা এলাকার। অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। স্থানীয় যশপুর এলাকার এএসপি প্রতিভা পাণ্ডে জানিয়েছেন যে মহিলার বিরুদ্ধে সংবিধানের মৌলিক অল্ধিকার ধর্মের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

Continue Reading

জাতীয়

৫টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দাপট বেশি

Published

on

By

নয়াদিল্লি: শনিবার ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দাপট বেশি কারণ বিজেপি দল চারটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে – উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুর, যখন কংগ্রেস পাঞ্জাব রাজ্যে শাসন করছে।

বিজেপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল এই চারটি রাজ্য ধরে রাখা নয়, পাঞ্জাবে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি অনুভব করাও যা বিজেপি দল অমরিন্দর সিংয়ের পাঞ্জাব লোক কংগ্রেস এবং সুখদেব সিং ধীন্ডসার শিরোমণি আকালি দলের সাথে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ক্ষমতাসীন বিজেপি চারটি রাজ্য ধরে রাখতে এবং পাঞ্জাব জিততে কোন কসরত রাখছে না কারণ এই নির্বাচনটি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দেশে রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি করবে।

উত্তরপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির পরাজয় বিরোধীদের শক্তিশালী করবে এবং বিরোধী ঐক্যের বিষয়ে বহু আলোচিত ব্যক্তিদের হাতের মুঠোয় দেবে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশ ধরে রাখলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির সম্ভাবনা বাড়বে।

উত্তরপ্রদেশে সাত ধাপে ভোট হবে – ফেব্রুয়ারি ১০, ১৪, ২০, ২৩, ২৭, মার্চ ৩ এবং ৭ মার্চ।

“এটি সর্বদা বিশ্বাস করা হয় যে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল লোকসভা নির্বাচনের জন্য সুর নির্ধারণ করবে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবারও এজেন্ডা নির্ধারণ করবে বিজেপির পক্ষে বা এর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের রানআপে। সাধারণ নির্বাচন। উত্তরপ্রদেশ, ৪০৩টি বিধানসভা এবং ৮০টি লোকসভা আসন সহ বৃহত্তম রাজ্য, রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, “একজন বিজেপি নেতা বলেছেন।

বিরোধীদের অভিযোগকে ভোঁতা করতে — তার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা-বিরোধীতার অস্তিত্ব, দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় কোভিডের অব্যবস্থাপনা, কৃষকদের বিক্ষোভ এবং অন্যান্য বিষয়গুলির জন্য, বিজেপি আক্রমনাত্মকভাবে উন্নয়নমূলক বিষয়গুলিতে আঁকড়ে আছে যা শুধুমাত্র রাজ্যের উন্নয়নের উপর জোর দেয়। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কারণে।

বিজেপি অবশ্য দাবি করে যে তার কোনও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষমতা-বিরোধীতা নেই এবং গত পাঁচ বছরে গৃহীত বেশ কয়েকটি পরিকাঠামোগত প্রকল্প এবং কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি তুলে ধরে।

২০১৭ সালের নির্বাচনে, ৪০৩ বিজেপি  সদস্যের বিধানসভায় প্রায় ৩২৫ টি আসন জিতে তার জোটের অংশীদারদের সাথে উত্তরপ্রদেশকে সুইপ করেছিল। এবার সমাজবাদী পার্টি (এসপি) বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিজেপি দলটি এসপি-আরএলডি জোট নিয়েও কিছুটা চিন্তিত যা পশ্চিম উত্তর প্রদেশে এর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

বিজেপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানুষ। “সব ৪০৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘জন আশির্বাদ যাত্রা’ চলাকালীন আমরা যে ভালবাসা এবং আশীর্বাদ পেয়েছি তা স্পষ্টতই দেখাচ্ছে যে লোকেরা ইতিমধ্যে রাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপি সরকারকে নির্বাচন করার জন্য তাদের মন তৈরি করেছে,” তিনি বলেছিলেন।

বিতর্কিত তিনটি খামার আইনে  ২০২০ সালে শিরোমনি আকালি দলের (এসএডি) সাথে তার জোট শেষ হওয়ার পরে বিজেপি পাঞ্জাবে রাজনৈতিক স্থল অর্জনের জন্য আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাচ্ছে। জাফরান দলের নেতারা বিশ্বাস করেন যে পাঞ্জাব লোক কংগ্রেস এবং শিরোমনি আকালি দল (সংযুক্ত) রাজ্যে রাজনৈতিক লাভ করবে। ফলাফল আরও দেখাবে যে তিনটি খামার আইন বাতিল করা বিজেপি এবং তার জোটের অংশীদারদের উপকার করেছে কিনা পাঞ্জাবে।

গোয়ায়, যেখানে বিজেপি ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং তার সবচেয়ে বড় নেতা মনোহর পারিকরের মৃত্যুর পরে প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, আম আদমি পার্টি (এএপি), কংগ্রেস এবং আত্মপ্রকাশকারী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে (টিএমসি)।

উত্তরাখণ্ডে, চার মাসে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করে বিজেপির লাভ হয়েছে কি না, তা বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পরে পাওয়া যাবে। মার্চ মাসে ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তীরথ সিং রাওয়াতকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী করেছিল বিজেপি। জুলাইয়ে তীরথ সিংকে পুষ্কর সিং ধামির পরিবর্তে নেওয়া হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে টিরও বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে বিজেপি। ২০১৭ সালের শেষ বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপি ৫৭টি আসন জিতেছিল।

পাঞ্জাব, গোয়া ও উত্তরাখণ্ডে ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

বিজেপি গত পাঁচ বছরে উন্নয়নের ইস্যুতে মণিপুরকে ধরে রাখতে চাইছে এবং ‘বন্ধ, অবরোধ’মুক্ত রাজ্য। ২০১৭ সালের মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৬০ টি আসনের মধ্যে ২১ টি জিতেছিল এবং আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল।

মণিপুরে দুই দফায় ভোট হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ।

Continue Reading

জাতীয়

নাগপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন দুই মহিলা বাঙালি চিকিৎসক

Published

on

By

মুম্বই: কথায় আছে ভালোবাসা অন্ধ হয়। অনেক নিয়ম ভেঙে নিজের ছন্দে চলতে আগ্রহী। সমাজের চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে অন্য পথে হাঁটে ভালোবাসা। একজন নারী এবং পুরুষ ছাড়াও দুইজন পুরুষ বা নারীদের মধ্যেই গড়ে উঠতে পারে ভালোবাসার সম্পর্ক। সেই সকল সম্পর্কের বিয়ে আগে অনেক দেখা গিয়েছে।

তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমের রাজ্য মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যের নাগপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দুই মহিলা। যারা দু’জনেই পেশায় চিকিৎসক। সংঘের শহরের বাসিন্দা ওই দুই মহিলা আবার বাঙালি। যাদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সমগ্র দেশ জুড়ে। গত সপ্তাহে এনগেজমেন্টের পরে চলতি সপ্তাহে বিয়ে করেছেন তাঁরা।

আলোচিত দুই চিকিৎসক হলেন পারোমিতা মুখোপাধ্যায় এবং সুরভি মিত্র। ওই দম্পতি নিজেদের সম্পর্কে দাম্পত্য বলতে নারাজ। পারোমিতার মতে এই সম্পর্ক হচ্ছে ‘আজীবনের অঙ্গিকার’। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের সম্পর্কে ‘আজীবনের অঙ্গিকার’ বা লাইফটাইম কমিটমেন্ট বলে থাকি।” গোয়ার সৈকতে একটা জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

এই সমকামী বিবাহ নিয়ে এখনও সমাজে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। আইনত বৈধতে মিললেও সামাজিক বৈধতা এখনও পায়নি এই প্রকারের বিয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল এই চিকিৎসক যুগলের মধ্যেও। পারমিতা বলছেন, “২০১৩ সাল থেকেই আমার বাবা জনতেন যে আমি সমকামী। মাকে যখন বলেছিলাম তখন খুব অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু পরে সব মেনে নিয়েছিলেন। কারণ মা চান যে আমি সুখে থাকি।”

অপরজন অর্থাৎ সুরভি মিত্র বলেছেন, “আমার সমকামিতা নিয়ে আমার পরিবারে কখনই কোনও সমস্যা হয়নি। আমার পিতামাতা এই বিষয়টি শুনে খুশি হয়েছিলেন। আমি এখন মনোবিদ, অনেকেই দ্বৈত স্বত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আসলে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন না।”

Continue Reading

Trending