Connect with us

জাতীয়

ক্ষমতায়নের জন্য জাতীয় পুরস্কার কালাশী CLF নারীর 

Published

on

Kalashi CLF

আগরতলা: কালশী ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনকে DAY-NRLM জাতীয় পুরস্কারের জন্য ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এই পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত দেশের 13টি সেরা পারফরম্যান্সকারী CLF-এর মধ্যে দ্য কালাশী CLF অন্যতম। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।

2018 সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালাশী ফেডারেশনের সদস্যরা এসএইচজি ভাঁজে এনে প্রতিটি বঞ্চিত গ্রামীণ পরিবারকে সংবেদনশীল ও সংবেদনশীল করার মাধ্যমে এসএইচজি সদস্যদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে এটি তাদের স্ব-শাসিত, স্ব-পরিচালিত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এ পর্যন্ত ফেডারেশন 95% বঞ্চিত পরিবারকে SHG ভাঁজে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং আত্মনির্ভরশীল ধারণা প্রচারে বিশ্বাস করে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রধান উদ্দেশ্য হল ছোট এবং অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠীগুলির অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতাগুলিকে অতিক্রম করা – যেমন সীমিত সংস্থান, ক্ষমতা, এবং আলোচনা এবং দর কষাকষির ক্ষমতা এবং বাইরের বিশ্বের সাথে মোকাবিলা করার অক্ষমতা – যেমন সরকারী ইকো-সিস্টেম, মূলধারার প্রতিষ্ঠানগুলি , বাজার, ইত্যাদি

ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে ফেডারেশনের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে যা (ক) অর্থনীতির স্কেল থেকে উদ্ভূত, (খ) লেনদেনের খরচ হ্রাস, (গ) সমস্ত স্তরে ডিফল্ট হার হ্রাস, (ঘ) মূল্য সংযোজন পরিষেবা, (ঙ) হ্রাস নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির প্রচারের খরচ (অর্থাৎ, প্রতিটি দরিদ্র মহিলার কাছে পৌঁছানোর খরচ) এবং (চ) স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মধ্যে আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতার মাত্রা বৃদ্ধি করা।

উপরোক্ত সুবিধাগুলি ছাড়াও ফেডারেশনের অন্যান্য উদ্দেশ্যগুলি হল: তহবিলের আন্তঃ-গ্রুপ আবর্তন; বাহ্যিক উত্স থেকে বাল্ক ঋণ এবং অনুদান অ্যাক্সেস করা; এসএইচজি সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের দক্ষতা এবং শাসনের প্রচারের মাধ্যমে এবং দরিদ্র মানুষের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বিকাশের মাধ্যমে সদস্যদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রাম সংস্থার কার্যাবলীর ধীরে ধীরে আলোচনা করা।
ফেডারেশনগুলি বেনামে নীচের নিম্নলিখিত মাত্রাগুলিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

1. স্বাস্থ্য: এই মাত্রার অধীনে তারা গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে। প্রচেষ্টাকে আরও গতি দিতে, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশেষ করে ICDS-এর সাথে একত্রিত হয়ে ফেডারেশন যতটা সুবিধা স্কিমগুলিতে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছে, এর জন্য তাদের প্রধান ভূমিকা হল SHG সদস্যদের সংবেদনশীল করা এবং সংগঠিত করা। এই প্রচেষ্টাকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য ফেডারেশন এই দায়িত্বটি সোশ্যাল অ্যাকশন সাব-কমিটির কাছে অর্পণ করেছে।

2. শিক্ষা: ফেডারেশন এই কথায় বিশ্বাস করে “যদি আপনি একজন পুরুষকে শিক্ষিত করেন তবে আপনি একজন ব্যক্তিকে শিক্ষিত করছেন কিন্তু আপনি যদি একজন মহিলাকে শিক্ষিত করেন তবে আপনি পুরো পরিবারকে শিক্ষিত করছেন৷ এই ধারণার মাধ্যমে ফেডারেশন অভ্যন্তরীণ বিদ্যালয়ে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ইউনিট স্থাপনের জন্য পিআরআই বডি এবং অন্যান্য লাইন বিভাগগুলির সাথে একত্রিত হয়ে স্কুল থেকে মেয়ে শিশুর ঝরে পড়ার ঘটনাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করছে।

3. জীবিকা: DAY-NRLM-এর মূল উদ্দেশ্যের সাথে সারিবদ্ধভাবে, গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস করা এবং মূল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য 1 এবং 2 এর একটিকে মোকাবেলা করার জন্য, ফেডারেশন সর্বদা আর্থিক যোগসূত্র ব্যবহার করে SHG সদস্যদের পারিবারিক আয় বাড়ানোর চেষ্টা করে। ব্যাংক থেকে এবং সময়মত কমিউনিটি বিনিয়োগ তহবিল বিতরণ। এই তহবিলগুলি বিদ্যমান জীবিকার কার্যক্রম বৃদ্ধিতে এবং নতুন জীবিকার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। SHG সদস্যরা বিভিন্ন সম্ভাব্য আয়বর্ধক ক্রিয়াকলাপের সাথে জড়িত যেমন মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ, গবাদি পশু পালন, কৃষি, মৎস্য চাষ ইত্যাদি, ভাল বাজার সংযোগ এবং মূল্য সংযোজনের জন্য। ফেডারেশন প্রযুক্তিগত অংশীদার সেস্তা ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস এবং লাইন বিভাগ থেকে সাহায্য নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত TRLM-এর সহায়তায় ফেডারেশন 3.18 কোটি টাকার কর্পাস তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই তহবিলটি এসএইচজি সদস্যদের মধ্যে 95%-এর বেশি পরিশোধের হার দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে এবং প্রায় 36 লক্ষ টাকা সুদ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে তারিখ

4. অধিকার এবং অধিকার: ফেডারেশন মহিলাদের অধিকারের জন্য কাজ করতেও বিশ্বাস করে। পিআরআই সংস্থাগুলির সাথে একত্রিত হয়ে ফেডারেশন তাদের অধিকার এবং অধিকার দাবি করার জন্য গ্রাম শাবাসে ক্রমাগত অংশগ্রহণ করছে। একীভূত জীবিকার পরিকল্পনা এবং চাহিদাগুলি পিআরআই বডির মাধ্যমে অন্যান্য লাইন বিভাগে জমা দেওয়া হচ্ছে।

ইভেন্টের উদ্দেশ্য হল জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতায়নে নারীদের দৃঢ়তা এবং দৃঢ়তার প্রশংসা করা এবং স্বীকার করা। জেন্ডার জাস্টিস সেন্টার পরিচালনার বিষয়ে CLF সদস্যদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হবে। এই মহিলারা লিঙ্গ সমতা আনয়ন এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জেন্ডার জাস্টিস সেন্টার পরিচালনা করছেন।

ইভেন্টটি জেন্ডার জাস্টিস সেন্টার ম্যানেজমেন্ট এবং জীবিকা পরিকল্পনার উপর চলচ্চিত্রগুলিও প্রদর্শন করবে যা বিভিন্ন রাজ্যের ভিডিও-ক্লিপগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে সংকলিত হয়েছে।

জাতীয়

মহিলা নয়, পুরুষদের সহায়ক বোরখা: তসলিমা

Published

on

By

নয়াদিল্লি: মহিলাদের শরীর ঢাকা হয় বোরখার মাধ্যমে। যাতে তাঁদের সম্ভ্রম বজায় থাকে। কিন্তু বোরখার দ্বারা কোনও উপকার হয় না মহিলাদের। উলটে পুরুষেরা উপকৃত হচ্ছে বোরখার মাধ্যমে। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে দিলেন জোরাল যুক্তি।

ইসলামিক রেওয়াজ এবং ইসলাম নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যে কোনও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেলেও ইসলামের বিরুদ্ধে যেন তাঁর বিদ্বেষ একটু বেশি। যা বিভিন্ন সময়ে ফুটে উঠেছে তাঁর লেখা এবং বক্তব্যে। তেমনই এবার বোরখার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল লজ্জার লেখিকাকে।

বোরখা হলো মহিলাদের এক ধরনের বহিরাঙ্গিক পোশাক যা সারা শরীর ঢেকে রাখে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী পর্দা বজায় রাখার স্বার্থে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে, বিশেষ করে পুরুষমহলে, যাওয়ার সময় এটি পরিধান করে থাকেন।

কর্ণাটকের হিজাব নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই শনিবার বোরখার অপকারিতা নিয়ে সরব হলেন তিনি। তসলিমা দাবি করেছেন যে বোরখার সাহায্যে মহিলার কোনও উপকার হয় না। উলটে পুরুষেরা বোরখা ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করে থাকে। সেই কারণেই বাংলাদেশের পুরুষেরা বোরখাকে বাধ্যতামূলক করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

টুইট করে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের পুরুষরা বোরখা বাধ্যতামূলক করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বোরকা নারীদের তুলনায় পুরুষদের অনেক বেশি সাহায্য করে। পুরুষরা তাদের মুখ লুকিয়ে রাখতে পারে। সেই সঙ্গে চুরি হওয়া জিনিসপত্র, বোরখার নিচে অবৈধ মাদক লুকিয়ে পাচার করতেও পারে।” সেই সঙ্গে তসলিমা আরও জানিয়েছেন যে বোরখা নারীদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে না।

Continue Reading

জাতীয়

উপাচার্যকে গালি তৃণমূলের, বিক্ষোভে বিজেপি

Published

on

By

Aliah University

কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মা তুলে অশ্রাব্য গালি তৃণমূলের ছাত্রনেতার। সেই সঙ্গে হত্যার হুমকি দেওয়া হল ওই উপাচার্যকে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি নিয়ে। অভিযুক্ত যুবক এখন আর দলে নেই বলে দায় এড়াল তৃণমূল।

চেয়ারে বসে রয়েছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ আলি। তাঁকে ঘিরে রয়েছে জনা কয়েক বিক্ষুব্ধ ছাত্র। যারা অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে চলেছে উপাচার্যকে। যাদের নেতৃত্বে রয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা গিয়াসুদ্দিন মন্ডল। প্রথমে চড় মারার হুমকি, তারপরে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হল। ফোন আটকে রেখে ছাত্রদের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলল ওই ছাত্ররা।

শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধী বিজেপি। রবিবার সকালে উপাচার্যের হেনস্থার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। সেই বিক্ষোভ থেকে দাবি উঠল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের। সেই সঙ্গে আচার্য হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য রাজ্যপালকে হস্তক্ষেপ করার দাবিও তুললেন বিজেপি হুগলী জেলা সভাপতি তুষার মজুমদার।

অভিযুক্ত গিয়াসুদ্দিনের সঙ্গে এখন সংগঠনের আর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গিয়াসুদ্দিনের ওই কীর্তিকে দল সমর্থন করে না বলেও দাবি করেছে ঘাস ফুল শিবির। তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য ফেসবুকের দেওয়ালে লিখেছেন, “ভিডিওটা দেখে গা গুলিয়ে উঠল। বমি পাচ্ছে! আসে পাশে গভীর পচন ধরেছে। শিক্ষাগুরু সম্পর্কে এমন ভাষা! কল্পনাও কি করা যায়? ছিঃ! অনতিবিলম্বে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের হাতে লাঠি, বেত ফিরে আসা খুব প্রয়োজন…”

Continue Reading

জাতীয়

বাম-তৃণমূলের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার পথে হাঁটছে কেরল-বাংলা

Published

on

By

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েহে রাবনের রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। খালি হয়ে গিয়েছে রাজ কোষ। ঋণ দিচ্ছে না কেউ। সরকারি ঘোষণা করে দিনের মধ্যে সাড়ে সাত ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্চে বিদ্যুৎ পরিষেবা। রাষ্ট্রকে সচল রাখতে ভারতের থেকে জ্বালানী সাহায্য নিতে হয়েছে। এক দিনে যে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি তা বলাই বাহুল্য। আর পড়শি রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার এই প্রতিকূলতা যেন সিঁদুরে মেঘ পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলের কাছে।

কেরলে পর্যটন ছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বড় কোনও উৎস নেই। উৎপাদন শিল্প নেই বললেই চলে। শ্রীলঙ্কার কায়দাতেই সরকার পরিচালিত হয় কেরল রাজ্যে। আকর্ষণীয় মিল রয়েছে কাছাকাছি থাকা ভারতের রাজ্য এবং পড়শি রাষ্ট্রের। দুই ক্ষেত্রেই উৎপাদন শিল্প এবং উচ্চ-পর্যায়ের পরিষেবার অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে আয়ের বড় উৎস পর্যটনের যোগ্য নেতৃত্ব নেই। এমনকি প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আমদানি করা হয়। সরকার চালাতে বিপুল ঋণ নিতে হয়। রেমিট্যান্স নির্ভরতা শ্রীলঙ্কার জটিলতার বড় কারণ। যা দেখে অনেকেই বলছেন যে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট অবশ্যই ‘কেরালা মডেল’ প্রবক্তাদের জন্য একটি নম্র অভিজ্ঞতা হবে।

ভারতের মতোই সাত দশক আগে শ্রীলঙ্কা ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত হয়েছে। সিংহলি বিত্তশালী ব্যক্তিরা বরাবর চেয়েছেন ঔপনিবেশিক স্থিতাবস্থা টিকে থাকুক সমাজে। ভূরাজনৈতিক স্বার্থে কিছু ‘দাতা’ সিংহলি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রক্ষমতায় মদদত দিতে দিতে ওই স্থিতিশীলতার ভেতর প্রায় রাজতন্ত্র কায়েম করে দিয়েছে। এই নব্য রাজপরিবার আয়-ব্যয়ের জরুরি হিসাব ছাড়াই বিশাল বিশাল বন্দর, রাস্তা, ভবন বানিয়ে জনগণকে মোহাচ্ছন্ন রাখার কৌশল নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে পূর্বাপর বিবেচনাহীন এ উন্নয়ন-নীতির শিকার শ্রীলঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বিষয়টা খানিকটা একই রকমের। সুন্দর করে সাজানো হয়েছে শহর থেকে গ্রাম। অনেক সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে মানুষকে। সেই প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন শিল্পের দেখা নেই। যার কারণে নতুন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী হওয়ার উপায় নেই। শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজ কোষ ভরে উঠতে পারে। সেদিকে নজর দিচ্ছে না তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। যার জেরে অদূর ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার মতোই দড়াবস্থার মুখোমুখী হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ।

শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক মুদ্রা খরচ না করে ডলারের বিপরীতে নিজেদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শ্রীলঙ্কার মুদ্রার বিপরীতে ক্রমাগত ডলারের দাম বাড়ায় পণ্য আমদানি কমে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে শ্রীলঙ্কান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ মাত্র ৭৩৪ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। কিন্তু চলতি বছরেই দেশটিকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা লাগবে। দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছে যে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না।

দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেশির ভাগই গ্যাস ও তেলনির্ভর। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তেল-গ্যাস না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। হাতে থাকা ডলারগুলো ধরে রাখতে সরকার বহু পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে বাজারে সেসব পণ্যের দাম গেছে বেড়ে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির একটি উৎস পর্যটন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধানতম এ খাত থেকে আয় কমে গিয়েছিল। প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সও কমেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঋনের চাপে জর্জরিত হয়ে রয়েছে। যার কারণে অনেক সরকারি নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। সামাজিক ভাতায় খরচ করতে গিয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না। খনি এবং বন্দর নির্ভরতার জেরে অর্থনীতি টিকে থাকলেও বৃদ্ধি নেই। উলটে খরচ বাড়ছে। এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কাকে দেখে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন অনেকে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় হয়তো শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হবে না বাংলা বা কেরলের। কিন্তু জটিলতা কিছু কম হবে না।

Continue Reading

Trending