Connect with us

জাতীয়

হালাল খাবারের নামে চলছে অর্থনৈতিক জিহাদ: বিজেপি বিধায়ক

Published

on

CT Ravi

নয়াদিল্লি: জিহাদ শব্দটি বহুওল প্রচারিত রয়েছে মুসলিম সমাজে। কোরানে ৪১ বার উল্লেখ রয়েছে জিহাদ শব্দটি। আরবি শব্দ জিহাদের অর্থ হচ্ছে সংগ্রাম। ইসলামের ইতিহাসে অনেক প্রকারের সংগ্রাম বা জিহাদের উল্লেখ রয়েছে। কালক্রমে জিহাদের সংজ্ঞা বদলেছে। যার অন্যতম হচ্ছে লাভ জিহাদ। সেই তালিকায় এবং যুক্ত হল অর্থনৈতিক জিহাদ।

লাভ জিহাদ হচ্ছে অমুসলিম মেয়েদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করা। তারপর তাঁকে ধর্মান্তিরত করে নেওয়া। এতে অন্য ধর্মের মানুষের সংখ্যা কমে যায়। সেই সঙ্গে ওই মহিলার গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ইসলামের অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। এতে ইসলামের পসার ঘটে। এই লাভ জিহাদ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। লাভ জিহাদ রুখতে কড়া আইন জারি হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

সেই বিতর্কের মাঝে নতুন কর যুক্ত হল ইকোনমিক জিহাদ বা অর্থনৈতিক জিহাদ। এই নয়া তত্ত্ব তুলে ধরেছেন কর্ণাটকের বিধায়ক তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সিটি রবি। তিনি বলেছেন, “হালাল খাবারের ব্যবসা হচ্ছে মুসলিমদের অর্থনৈতিক জিহাদ। হালাল মাংসের ধারণার অর্থ হল তারা নিজেদের মধ্যে ব্যবসা করতে পারে এবং শুধুমাত্র তাদের লোকদের মধ্যে হালাল মাংস খেতে পারে।” সেই সঙ্গে তাঁর আরও প্রশ্ন, “এটাকে ভুল হিসেবে নির্দেশ করতে দোষের কী আছে।”

মুসলিম সমাজে খাবার গ্রহণের বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। সকল প্রকারের খাবার মুসলিমরা গ্রহণ করেন না। কোনও পশু হত্যা করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিয়ম মেনে তা করতে হয়। তবেই তা হালাল। অন্যথায় ওই মাংস গ্রহণ ইসলাম বিরুদ্ধ বা হারাম। সেই কারণে ওই খাবারের দোকানে হালাল খাবারের কথা উল্লেখ করা থাকে। মুসলিমরাও অনেক জায়গায় খাওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করে নেন খাবারটি হালাল কিনা।

বিধায়কের মুখে এই প্রকারের শব্দ থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন করতে পারে। যদিও বিভাজনের তত্ত্ব মানতে নারাজ বিধায়ক সিটি রবি। তিনি বলেছেন, “তারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আমরা আমাদের রক্ষা করছি। সমস্যাটা কি? তারা হালালের নামে তাদের এজেন্ডা নির্ধারণ করেছে। তারা উদার হলে আমরাও উদার হয়ে যাব।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন যে সমাজে হিন্দু-মুসলিম বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তাই নতুন করে তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে বিভাজনের কিছুই নেই।

সাম্প্রতিক অতীতে হিজাব বিতর্ক নিয়ে উত্তাল হয়েছে কর্ণাটক। যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র দেশে। সেই রেশ না কাটতেই জন্ম নিচ্ছে নয়া বিতর্ক। সিটি রবির ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইয়ের হালাল খাবার নিয়ে মন্তব্যের পরে। তিনি বলেন, “হালাল ইস্যু সবেমাত্র শুরু হয়েছে। আমাদের এটা খতিয়ে দেখতে হবে। এটি একটি ইসলামিক অনুশীলন, যা চলে আসছে। এখন তা নিয়ে তীব্র আপত্তি উঠেছে। আমি এটা দেখব।”

জাতীয়

মহিলা নয়, পুরুষদের সহায়ক বোরখা: তসলিমা

Published

on

By

নয়াদিল্লি: মহিলাদের শরীর ঢাকা হয় বোরখার মাধ্যমে। যাতে তাঁদের সম্ভ্রম বজায় থাকে। কিন্তু বোরখার দ্বারা কোনও উপকার হয় না মহিলাদের। উলটে পুরুষেরা উপকৃত হচ্ছে বোরখার মাধ্যমে। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে দিলেন জোরাল যুক্তি।

ইসলামিক রেওয়াজ এবং ইসলাম নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যে কোনও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেলেও ইসলামের বিরুদ্ধে যেন তাঁর বিদ্বেষ একটু বেশি। যা বিভিন্ন সময়ে ফুটে উঠেছে তাঁর লেখা এবং বক্তব্যে। তেমনই এবার বোরখার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল লজ্জার লেখিকাকে।

বোরখা হলো মহিলাদের এক ধরনের বহিরাঙ্গিক পোশাক যা সারা শরীর ঢেকে রাখে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী পর্দা বজায় রাখার স্বার্থে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে, বিশেষ করে পুরুষমহলে, যাওয়ার সময় এটি পরিধান করে থাকেন।

কর্ণাটকের হিজাব নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই শনিবার বোরখার অপকারিতা নিয়ে সরব হলেন তিনি। তসলিমা দাবি করেছেন যে বোরখার সাহায্যে মহিলার কোনও উপকার হয় না। উলটে পুরুষেরা বোরখা ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করে থাকে। সেই কারণেই বাংলাদেশের পুরুষেরা বোরখাকে বাধ্যতামূলক করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

টুইট করে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের পুরুষরা বোরখা বাধ্যতামূলক করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বোরকা নারীদের তুলনায় পুরুষদের অনেক বেশি সাহায্য করে। পুরুষরা তাদের মুখ লুকিয়ে রাখতে পারে। সেই সঙ্গে চুরি হওয়া জিনিসপত্র, বোরখার নিচে অবৈধ মাদক লুকিয়ে পাচার করতেও পারে।” সেই সঙ্গে তসলিমা আরও জানিয়েছেন যে বোরখা নারীদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে না।

Continue Reading

জাতীয়

উপাচার্যকে গালি তৃণমূলের, বিক্ষোভে বিজেপি

Published

on

By

Aliah University

কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মা তুলে অশ্রাব্য গালি তৃণমূলের ছাত্রনেতার। সেই সঙ্গে হত্যার হুমকি দেওয়া হল ওই উপাচার্যকে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি নিয়ে। অভিযুক্ত যুবক এখন আর দলে নেই বলে দায় এড়াল তৃণমূল।

চেয়ারে বসে রয়েছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ আলি। তাঁকে ঘিরে রয়েছে জনা কয়েক বিক্ষুব্ধ ছাত্র। যারা অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে চলেছে উপাচার্যকে। যাদের নেতৃত্বে রয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা গিয়াসুদ্দিন মন্ডল। প্রথমে চড় মারার হুমকি, তারপরে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হল। ফোন আটকে রেখে ছাত্রদের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলল ওই ছাত্ররা।

শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধী বিজেপি। রবিবার সকালে উপাচার্যের হেনস্থার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। সেই বিক্ষোভ থেকে দাবি উঠল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের। সেই সঙ্গে আচার্য হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য রাজ্যপালকে হস্তক্ষেপ করার দাবিও তুললেন বিজেপি হুগলী জেলা সভাপতি তুষার মজুমদার।

অভিযুক্ত গিয়াসুদ্দিনের সঙ্গে এখন সংগঠনের আর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গিয়াসুদ্দিনের ওই কীর্তিকে দল সমর্থন করে না বলেও দাবি করেছে ঘাস ফুল শিবির। তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য ফেসবুকের দেওয়ালে লিখেছেন, “ভিডিওটা দেখে গা গুলিয়ে উঠল। বমি পাচ্ছে! আসে পাশে গভীর পচন ধরেছে। শিক্ষাগুরু সম্পর্কে এমন ভাষা! কল্পনাও কি করা যায়? ছিঃ! অনতিবিলম্বে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের হাতে লাঠি, বেত ফিরে আসা খুব প্রয়োজন…”

Continue Reading

জাতীয়

বাম-তৃণমূলের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার পথে হাঁটছে কেরল-বাংলা

Published

on

By

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েহে রাবনের রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। খালি হয়ে গিয়েছে রাজ কোষ। ঋণ দিচ্ছে না কেউ। সরকারি ঘোষণা করে দিনের মধ্যে সাড়ে সাত ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্চে বিদ্যুৎ পরিষেবা। রাষ্ট্রকে সচল রাখতে ভারতের থেকে জ্বালানী সাহায্য নিতে হয়েছে। এক দিনে যে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি তা বলাই বাহুল্য। আর পড়শি রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার এই প্রতিকূলতা যেন সিঁদুরে মেঘ পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলের কাছে।

কেরলে পর্যটন ছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বড় কোনও উৎস নেই। উৎপাদন শিল্প নেই বললেই চলে। শ্রীলঙ্কার কায়দাতেই সরকার পরিচালিত হয় কেরল রাজ্যে। আকর্ষণীয় মিল রয়েছে কাছাকাছি থাকা ভারতের রাজ্য এবং পড়শি রাষ্ট্রের। দুই ক্ষেত্রেই উৎপাদন শিল্প এবং উচ্চ-পর্যায়ের পরিষেবার অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে আয়ের বড় উৎস পর্যটনের যোগ্য নেতৃত্ব নেই। এমনকি প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আমদানি করা হয়। সরকার চালাতে বিপুল ঋণ নিতে হয়। রেমিট্যান্স নির্ভরতা শ্রীলঙ্কার জটিলতার বড় কারণ। যা দেখে অনেকেই বলছেন যে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট অবশ্যই ‘কেরালা মডেল’ প্রবক্তাদের জন্য একটি নম্র অভিজ্ঞতা হবে।

ভারতের মতোই সাত দশক আগে শ্রীলঙ্কা ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত হয়েছে। সিংহলি বিত্তশালী ব্যক্তিরা বরাবর চেয়েছেন ঔপনিবেশিক স্থিতাবস্থা টিকে থাকুক সমাজে। ভূরাজনৈতিক স্বার্থে কিছু ‘দাতা’ সিংহলি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রক্ষমতায় মদদত দিতে দিতে ওই স্থিতিশীলতার ভেতর প্রায় রাজতন্ত্র কায়েম করে দিয়েছে। এই নব্য রাজপরিবার আয়-ব্যয়ের জরুরি হিসাব ছাড়াই বিশাল বিশাল বন্দর, রাস্তা, ভবন বানিয়ে জনগণকে মোহাচ্ছন্ন রাখার কৌশল নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে পূর্বাপর বিবেচনাহীন এ উন্নয়ন-নীতির শিকার শ্রীলঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বিষয়টা খানিকটা একই রকমের। সুন্দর করে সাজানো হয়েছে শহর থেকে গ্রাম। অনেক সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে মানুষকে। সেই প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন শিল্পের দেখা নেই। যার কারণে নতুন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী হওয়ার উপায় নেই। শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজ কোষ ভরে উঠতে পারে। সেদিকে নজর দিচ্ছে না তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। যার জেরে অদূর ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার মতোই দড়াবস্থার মুখোমুখী হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ।

শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক মুদ্রা খরচ না করে ডলারের বিপরীতে নিজেদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শ্রীলঙ্কার মুদ্রার বিপরীতে ক্রমাগত ডলারের দাম বাড়ায় পণ্য আমদানি কমে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে শ্রীলঙ্কান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ মাত্র ৭৩৪ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। কিন্তু চলতি বছরেই দেশটিকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা লাগবে। দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছে যে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না।

দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেশির ভাগই গ্যাস ও তেলনির্ভর। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তেল-গ্যাস না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। হাতে থাকা ডলারগুলো ধরে রাখতে সরকার বহু পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে বাজারে সেসব পণ্যের দাম গেছে বেড়ে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির একটি উৎস পর্যটন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধানতম এ খাত থেকে আয় কমে গিয়েছিল। প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সও কমেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঋনের চাপে জর্জরিত হয়ে রয়েছে। যার কারণে অনেক সরকারি নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। সামাজিক ভাতায় খরচ করতে গিয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না। খনি এবং বন্দর নির্ভরতার জেরে অর্থনীতি টিকে থাকলেও বৃদ্ধি নেই। উলটে খরচ বাড়ছে। এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কাকে দেখে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন অনেকে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় হয়তো শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হবে না বাংলা বা কেরলের। কিন্তু জটিলতা কিছু কম হবে না।

Continue Reading

Trending